aaa

বাংলাদেশ

3b3101285bee3d7fb5533ac61c708900-4

Advertisements

ফাইনালে আর্জেন্টিনা

বাংলাদেশ

প্যারাগুয়ের জালে গুনে গুনে আধ ডজন গোল দিয়ে ১১ বছর পর কোপা আমেরিকার ফাইনালে আকাশি-সাদারা। ছবি: এএফপিসব গোল তাহলে জমিয়েই রেখেছিল আর্জেন্টিনা! বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ। অথচ প্রথম চার ম্যাচে মাত্র চার গোল। আগের তিন ম্যাচে গোল মোটে দুটি। সেমিফাইনালেও উঠেছে টাইব্রেকারের লটারিতে। অবশেষে নিন্দুকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিতেই জ্বলে উঠল আর্জেন্টিনা। প্যারাগুয়ের জালে গুনে গুনে আধ ডজন গোল! ৬-১-এ জিতে ৮ বছর পর কোপা আমেরিকার ফাইনালে আকাশি-সাদারা। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে স্বাগতিক চিলি। 

ছয় গোল, কিন্তু বিস্ময়করভাবে স্কোরশিটে নেই লিওনেল মেসির নাম। জাতীয় দলের হয়ে গোল না-পাওয়া নিয়ে শৈশবের বন্ধু মেসিকে কদিন আগে খোঁচাও দিয়েছেন সার্জিও আগুয়েরো। ম্যাচজুড়ে প্যারাগুয়ের একমাত্র সফলতা মেসিকে গোলবঞ্চিত রাখা। না হলে চারটি গোলে অবদান রাখলেন অধিনায়কই। আগুয়েরো নিজেও গোল পেয়েছেন। তাঁর বদলি হিসেবে নেমে গোল করেছেন গঞ্জালো হিগুয়েইনও। কিন্তু আর্জেন্টিনা এক হালি পূর্ণ করেছে তাদের কোনো ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই। 
যেন সব সমালোচনার জবাব দিতে প্যারাগুয়েকেই বেছে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
সেট পিস থেকে গোল করতে না-পারা, দুর্বল ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ-সব সমালোচনার জবাব দিতে প্যারাগুয়েকেই বেছে নিল আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে মেসির ফ্রি কিক থেকে বক্সের জটলায় বল পেয়ে প্রথমে এগিয়ে দেন মার্কোস রোহো। বিশ্বকাপের পর আবারও গোলের দেখা পেলেন এই ফুলব্যাক। 
২৭ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত থ্রু বল তিরের ফলার মতো ঢুকে গেল প্যারাগুয়ের রক্ষণ চিঁড়ে। তিরটাকে হাভিয়ের পাস্তোরে গোলা বানিয়ে করে ফেললেন ২-০। রোহোর মতো এটিও তাঁর জাতীয় দলের হয়ে মাত্র দ্বিতীয় গোল। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেলা পিএসজির মিডফিল্ডার অবশ্য আশাবাদী করছেন, তৃতীয় গোলের জন্য অপেক্ষাটা দীর্ঘ করবেন না। 
আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই প্যারাগুয়ে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত ড্র নিয়ে ফিরেছিল। আজও দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর লড়াইয়ে ফেরার আভাস ছিল তাদের। প্রথমার্ধের শেষ প্রান্তে সেই লুকাস ব্যারিয়স দুর্দান্ত শটে ২-১ ব্যবধান নামিয়ে এনেছিলেন, আর্জেন্টিনার মাটিতেই যাঁর নাড়িপোঁতা। তবে কি আবারও…। 
না, আর্জেন্টিনা এবার ম্যাচের শেষপ্রান্তের নাটকীয়তার কোনো সুযোগই দিল না। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা ৮ মিনিট গড়াতে না-গড়াতেই ৪-১ করে ফেললেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। ৪৭ মিনিটে বক্সের বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে করলেন তাঁর প্রথম গোলটি। ৫৩ মিনিটে গোলরক্ষকের সেভ থেকে ফেরা ফিরতি বলে ট্যাপ ইন করে আরও একবার দু হাতে হৃদয় আঁকলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে খোঁজা এই উইঙ্গার। 
সতীর্থদের সঙ্গে গোল উদ্‌যাপন করছেন হাভিয়ের পাস্তোর। ছবি: এএফপি
চারটি গোল হয়ে গেছে। ম্যাচও ততক্ষণে এক রকম শেষ। কিন্তু মেসি তো বটেই, গোলের দেখা পাননি আগুয়েরোও। ক্রসগুলো আর্জেন্টিনা কাজে লাগাতে পারে না—এই দুঃখটাও ভুলিয়ে দিয়ে দারুণ হেডে আগুয়েরো করলেন টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোল। আগুয়েরোর বদলি হিসেবে নামতে না-নামতেই ৮৩ মিনিটে হিগুয়েইন পূর্ণ করলেন গোলের আধ ডজন। এবারও মেসিকে আটকাল প্যারাগুয়ে রক্ষণ। মেসি পড়ে গেলেন। মাটিতে শুয়েই আলতো টোকায় বল বাড়ালেন। সেখান থেকেই হিগুয়েইনের গোল, জাত স্ট্রাইকারদের মতো, সামান্য জায়গা থেকেই জোরালো শট। 
খেলার তখনো সাত মিনিট বাকি। সাত নম্বর গোলটাও হয়ে যাক, মেসিকে দিয়েই! কিন্তু না, আর গোল হলো না। রেফারিও প্যারাগুয়েকে আর লজ্জায় ফেলতে চাইলেন না। ৯০ মিনিট হতেই বাজিয়ে দিলেন শেষের বাঁশি। টানা দ্বিতীয়বার কোনো দলকে নিয়ে কোপার ফাইনালে গেলেন জেরার্ডো মার্টিনো, গতবার কোচ ছিলেন প্যারাগুয়েরই। 
গতবার মার্টিনোও খালি হাতে ফিরেছেন। এবার আর্জেন্টিনা ফিরতে চায় না। দীর্ঘ শিরোপা-খরা ঘোচানোর তীব্র ক্ষুধাটা আজ স্পষ্ট হলো। জমিয়ে রাখা গোলগুলো সব সেমিতেই নিশ্চয়ই তারা খরচ করে ফেলেনি। সবচেয়ে বড় কথা, টানা চার ম্যাচে গোলশূন্য মেসির জমানো গোলগুলো তো ফাইনালের জন্য রইলই। 
৪ জুলাইয়ের ফাইনালে অবশ্য স্বাগতিক চিলি, টুর্নামেন্টজুড়ে যারা দুর্দান্ত খেলেছে। তবে আর্জেন্টিনা স্বপ্ন আর আশায় বুক বাঁধতেই পারে। 
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যাওয়ার দুঃখ পরের বছর কোপার শিরোপা দিয়ে অনেকটাই ভুলেছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৯১ সালে চিলিতে হওয়া কোপার আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারাই। মজার ব্যাপার হলো, গত বছরও বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে আবার কোপার শিরোপার সামনে ম্যারাডোনার উত্তরসূরিরা। 
সেই ১৯৯৩ সালের পর থেকে শিরোপা-খরা চলছে আর্জেন্টিনার। বার্সার হয়ে দুই ডজন ট্রফি জেতা মেসির জাতীয় দলের হয়ে ট্রফি জেতার অপেক্ষার পালা কি এবার ফুরোবে?

চীনে হে নামের এক ব্যক্তির কিডনি থেকে ৪২০টি পাথর অপসারণ

বাংলাদেশ

চীনে হে নামের এক ব্যক্তির কিডনি থেকে ৪২০টি পাথর অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের দংইয়াং হাসপাতালে দুই ঘণ্টা ধরে ওই ব্যক্তির অস্ত্রোপচার করা হয়।

বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, চিকিৎসকেরা বলছেন তেল জাতীয় খাবার বেশি খাওয়ায় ও কম পানি পান করার কারণে তাঁর পেটে এত বেশি পাথর জমে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেয়েছেন। একই সঙ্গে খুব কম পানি পান করেছেন।

চীনের কিয়ানজিয়াং ইভনিং পোস্টের এক খবরে হের চিকিৎসক ওয়ে ইয়াবিন বলেন, দুই ঘণ্টা ধরে হের অস্ত্রোপচার করা হয়।

মে মাসে হে তলপেটে ব্যথা নিয়ে ওই চিকিৎসকের কাছে যান। সিটি স্ক্যান করে দেখা যায়, তার বামদিকের কিডনি পাথরে ভরা। চিকিৎসক ওয়ে ইয়াবিন বলেন, হে যদি আরও বেশিদিন ওই পাথর নিয়ে থাকতেন, তাহলে তাঁর কিডনি অপসারণ করতে হতো।

হের কিডনিতে থাকা পাথরগুলো থেকে অদ্ভুত শব্দ হতো। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে, ২০০৯ সালে ভারতে এক রোগীর বামদিকের কিডনিতে তিন ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করে এক লাখ ৭২ হাজার ১৫৫টি পাথর অপসারণ করা হয়।

১৯ ঘণ্টা পর কারখানার আগুন নিভল, ভবনে ধস

বাংলাদেশ

১৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে গাজীপুরের পোশাক কারখানার আগুন। ইস্পাতের কাঠামোর ওপর নির্মিত সাততলা ভবনটির ওপরের কয়েকটি তলা আগুনে ধসে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গতকাল রোববার বেলা সোয়া দুইটার দিকে শ্রীপুর উপজেলার বেতজুরী এলাকায় ডিগনিটি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামে ওই পোশাক কারখানায় আগুন লাগে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে ইস্পাতের কাঠামোগুলো দুর্বল হয়ে গলে পড়েছে। এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে।

এত দীর্ঘ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসার কারণ জানতে চাইলে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন বলেন, কারখানার সাততলা ভবনটি ইস্পাতের তৈরি। এ কারণে কাছে গিয়ে আগুন নেভানো যায়নি। এ ছাড়া বাইরে থেকে পানি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ভবনটিতে রাখা হয়নি। আগুনে ভবনের দুইটি তলা অবশিষ্ট আছে। সেটি কোনো কাজে আসবে না। বাকি পাঁচতলার বেশির ভাগটাই ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আক্তারুজ্জামান লিটন বলেন, কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ডাম্পিংয়ের কাজ করছে।

গতকাল রাত সাড়ে ১২টা থেকে মাইকিং করে আশপাশের লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদেকুর রহমান।

কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ফায়ার সার্ভিসের আকতারুজ্জামান লিটনের ভাষ্য, আগুন লাগার সময় কারখানায় খাবারের বিরতি ছিল। প্রায় সব শ্রমিক ও কর্মকর্তা বাইরে ছিলেন। কারখানাটিতে সুতা থেকে টি-শার্ট তৈরি করা হয়। ভবনের তৃতীয় তলার গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। সাততলা ওই ভবনের দক্ষিণ পাশের জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে কারখানার শ্রমিকেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে শ্রীপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহের ভালুকাসহ ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১৪ ইউনিট এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় ওপরের তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের উত্তাপে ভবনের ইস্পাতের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডে সাততলা ভবনের ইস্পাতের কাঠামো দুর্বল হয়ে গলে পড়ে। ছবি: মাসুদ রানাকারখানার শ্রমিক আরাফাত হোসেন বলেন, দুপুরে খাওয়ার সময় আগুন লাগায় তিনিসহ সব শ্রমিক কারখানার বাইরে অবস্থান করছিলেন। আরেক শ্রমিক সুলতান মিয়া বলেন, ‘কারখানা পুড়ে নাই, আমাগো কপাল পুড়েছে। আবার কবে কারখানা চালু অইব, এর কোনো ঠিক নাই।’ একই রকম হতাশার সুর বেশির ভাগ শ্রমিকের কণ্ঠে।

গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদেকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি আগামী পাঁচ কার্যদিবসে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাজমুন্নাহারের ভাষ্য, ঘটনার সময় তৃতীয় তলায় বিরতি চলছিল। এ সময় ওই তলার গুদামঘরের দক্ষিণ পাশের জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে আগুনের বিষয়টি নজরে আসে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন তৃতীয় তলার পুরো অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে তৃতীয় তলার গার্মেন্টসসহ সব সরঞ্জাম পুড়ে গেছে